জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change) সম্ভবত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি।শুধুমাত্র বিজ্ঞানীরাই নয় বরং অর্থনীতিবিদ, রাজনিতিবিদ, ব্যবসায়ী সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব নিয়ে চিন্তিত।এই প্রক্রিয়ার সাথে স্লংশ্লিষ্ট সকলে মত দিচ্ছেন ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফলে হয়তো এ সমস্যাকে আমরা মোকাবেলা করতে পারব। আর এ জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থেকে শুরু করে ধর্মীয়,সামাজিক, অর্থনৈতিক সহ সকল ধরনের জ্ঞানের সুচিন্তিত সন্নিবেশ।
দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের দরিদ্র-ব্লক হিসেবে খ্যাত মুসুলিম বিশ্ব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সিডর, পাকিস্তানে ভুমিকম্প, সুদানের দারফুরে জাতিগত দাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে মুসলিম বিশ্ব বিপর্যস্ত।ইসলাম পরিবেশ নিয়ে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করলেও ধর্মীয় অজ্ঞতা, গবেষনার অপ্রতুলতা এবং সর্বোপরি ধর্মীয় নিয়ম কানুন সঠিকভাবে অনুসরন না করার ফলে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর পরিবেশ এখন বিপর্যয়ের সম্মুখিন।
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে সামগ্রিক জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য গ্রীনহাউজ গ্যাস বলে খ্যাত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) দায়ী।মানুষের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন,অপচয়, জীববৈচিত্র্য (Biodiversity )ধ্বংস,ভোগবিলাসের নিমিত্তে প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধর্মীয় অনুশাসন না মানার ফলেই বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্লংশ্লিষ্ট অনেকের ধারনা।
ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।মানুষের সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের সম্পর্ক কি হবে তা ইসলামে সুস্পস্টভাবে উল্লেখ আছে।মুসলিমরা বিশ্বাস করে বিশ্ব-ব্রম্মান্ডের সবকিছুই মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং সবাই তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরানে বর্ণিত আছে , “পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং উহারা যাহাদিগকে জানেনা তাহাদিগের প্রতেকে সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়া জোড়া করিয়া” (সুরা ইয়াসিন,আয়াত ৩৬)।
মহান আল্লাহতায়ালা সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে।পবিত্র কোরানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষনা করেছেন, “পৃথিবীকে আমি বিস্তৃত করিয়াছি এবং উহাতে পর্বতমালা স্থাপন করিয়াছি, আমি উহাতে প্রত্যেক বস্তু উদ্ভুত করিয়াছি সুপরিমিতভাবে”(সুরা আল হিজ্বর, আয়াত ১৯)।কিন্তু ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ভুলে মানুষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে থাকে যার ফলে অনেক উদ্ভিদ এবং প্রাণী (জীববৈচিত্র্য -Biodiversity) বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং অনেকগুলো বি্লুপ্তির পথে।পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার জন্য যে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস অনেকাংশে দায়ী তা বিজ্ঞানিরা ও বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন।
উন্নতির চরম শিখরে পৌছার জন্য আমরা পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদকে এমনভাবে ব্যবহার করেছি যে ২০৫০ সালের মধ্যে মানষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরনের জন্য দুটি পৃথিবীর সমান প্রাকৃতিক সম্পদ প্রয়োজন।কিন্তু তা অসম্ভব ব্যাপার।তাই বিজ্ঞানি সহ স্লংশ্লিষ্ট সকলে মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কথা বলছেন,ধর্মীয় অনুশাসন মানার দিকে জোর দিচ্ছেন।অনেকেই এখন অভিমত দিচ্ছেন, ধর্মের মত বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠানই একমাত্র মানুষকে আশার আলো দেখাতে পারে।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন ধর্মীয় জ্ঞানকে পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে।১৯৯৫ সালে বিশ্বব্যাংক “আধ্যাতিক জ্ঞানঃটেকসই পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আবশ্যক” শিরোনামে সম্মেলনের আয়োজন করে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৯৬ সালে স্বাস্থ্য রক্ষায় ধর্মীয় জ্ঞান শীর্ষক পুস্তিকা বের। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ রক্ষায় ধর্মীয় জ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গবেষনা হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো,পরিবশ নিয়ে ইসলামে সুস্পষ্টভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে।
ইসলামি জীবন ব্যবস্থা কোরান এবং হাদিসের আলোকে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি দ্বারা পরিচালিত।প্রকৃতপক্ষে ইসলাম মানুষের উপর ৪ ধরনের কর্তব্য নির্ধারন করেছে।প্রথমত স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য,দ্বিতীয়ত নিজের প্রতি কর্তব্য, তৃতীয়ত মানবতার প্রতি কর্তব্য এবং সবশেষে সকল সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য ।এই কর্তব্যগুলো কিভাবে পালন করতে হবে সে বিষয়ে কোরান এবং হাদিসে পরিস্কারভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে।
পরিবেশ সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা ৩টি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।এগুলো হল তাওহিদ (একত্ববাদ), খলিফা (স্বেচ্ছাসেবি) এবং আমানত (বিশ্বাস)।
তাওহিদ হচ্ছে ইসলামের মুল বিশ্বাস। যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ এক এবং তার কোন অংশীদ্বার নেই,তিনি এই বিশ্বের সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন।পবিত্র কোরানে এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, “আসমান ও যমিনে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং সবকিছুকে আল্লাহ পরিবেষ্টন করে রয়েছেন” (সুরা আন নিসা, আয়াত ১২৬)।তাই আল্লাহর কোন সৃষ্টির অপব্যবহার পাপ।খলিফা এবং আমানত এ দুটি ভিত্তিও তাওহিদের বিশ্বাস থেকে জন্ম।
পবিত্র কোরান ঘোষনা করেছে, স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অন্যান্য সৃষ্টিকে দেখাশুনার দায়িত্ব তার(খলিফা)।শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানুষ অন্যান্য জীবের উপর অন্যায় আচরণকে ইসলাম সম্পূর্ণরুপে নিষেধ করেছে।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ ঘোষনা করেন, ভূ-পৃষ্ঠে
বিচরণশীল এমন কোন জীব নাই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে উড়ে এমন কোন পাখি নাই যাহা তমাদিগের মত উম্মত নয় (সুরা আনা’আম, আয়াত ৩৮)।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও বিশ্বাস করতেন, মানুষ সকল সৃষ্টির পরিচর্যাকারী মাত্র কিন্তু মালিক নয়।এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ইরামন্ত্রী বলেছেন, “প্রত্যেক জাতি পৃথিবীর রক্ষক মাত্র। এই পৃথিবীকে দূষিত করার কিংবা এর সম্পদকে যথেচ্ছ ব্যবহার করার কোন অধিকার মানুষের নেই, বরং পৃথিবীর সম্পদকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যাতে ভবিষ্যতের নাগরিকরা একই রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে এবং এটাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা” তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলার জন্য যে টেকসই উন্নয়নের (Sustainable Development) কথা বলা হচ্ছে তা ইসলামেরই শিক্ষা ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দূর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।কিন্তু ইসলাম পরিবেশ দূষণকে গর্হিত কাজ হিসাবে চিন্হিত করেছে এবং এ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরানে বর্ণিত আছে, “মানুষের কৃতকর্মের দরুন সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে, যাহার ফলে উহাদিগের কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান যাহাতে উহারা ফিরিয়া আসে”(সুরা আর’রুম, আয়াত ৪১)।এ আয়াত দ্বারা এটা স্পষ্ট, বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি কোন অলৌকিক ব্যাপার নয় বরং আমাদেরই কৃতকর্মের ফল।
মহাবিপদের সামনে দাঁড়িয়ে মানবসম্প্রদায়।এ অবস্থার জন্য যে আমরাই দায়ী তা ইসলাম যেমন পূর্বেই হুশিয়ার করেছে তেমনি বর্তমান বিজ্ঞানও মানুষের অপরিনামদর্শী কর্মকে দোষারোপ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তদোপরি মানুষের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অধিক পরিমাণে গাছ লাগানো, জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সচেষ্ঠ হওয়া, ভূমির সু-পরিকল্পিত ব্যবহার, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও বন্টন এবং সর্বোপরি আমাদের বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ব্যবস্থার পরিবর্তন আবশ্যক বলে বিজ্ঞানীরা অভিমত ব্যক্ত করেছে। অপরদিকে ইসলামে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সুপরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) উর্বর ভূমির সুপরিকল্পিত ব্যবহার ও বৃক্ষরোপনের জন্য তাগিদ দিয়েছেন।পবিত্র হাদিসে বর্ণিত আছে, “ কোন মুসলিমের রোপিত বৃক্ষ হইতে কোন ব্যক্তি ফল ভক্ষণ করিলে তা পরোপকার হিসাবে বিবেচিত হইবে, কোন ফল চুরি হইলে তাও পরোপকার হিসাবে বিবেচিত হইবে, কোন পাখি যদি ঐ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করে তবে তা জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন হিসাবে বিবেচিত হইবে (বোখারী শরীফ)।অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, “কোন ব্যক্তি যদি শুষ্ক অথবা পতিত জমিতে আবাদ করে তবে তা আল্লাহর জন্য কাজ হিসাবে বিবেচিত হইবে, যতদিন মানুষ ও পশু-পাখি ঐ জমি হইতে উপকৃত হইবে ততদিন ঐ ব্যক্তির উপর পূণ্য বর্ষিত হইবে”
মুসলিমরা পানিকে স্রষ্টার উপহার হিসাবে দেখে।পবিত্র কোরানে পানিকে প্রানের উৎস হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “ যাহারা কুফরী করে তাহারা কি ভাবিয়া দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশিয়াছিল ওতোপ্রতোভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করিয়া দিলাম, প্রানবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিলাম পানি হইতে, তবুও কি উহারা বিশ্বাস করিবে না” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৩০)।বিজ্ঞানীরা ও গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, পানি থেকে সমস্ত প্রানের উৎপত্তি।পবিত্র কোরানে পানিকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং ৬৩ বার পানি (আরবী-মা) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং এর দূষণ সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) জ্ঞাত ছিলেন।তিনি এর সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য পানির উৎসমুখে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ (আরবি-হারিম) প্রবর্তনের সূচনা করেন।বর্তমানে অনেক দেশেই পানিসম্পদকে রক্ষার জন্য পানির উৎস এলাকাকে সংরক্ষিত স্থান (Protected Area)হিসেবে চিন্হিত করেছে। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের অন্যতম নামাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে ওযুর মাধ্যমে পাক পবিত্র হওয়া, আর ওযুর জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি। পানির পরিমিত ব্যবহার এবং এর দূষণ রোধে মহানবী(সাঃ)সচেষ্ঠ ছিলেন।বোখারি শরীফে বর্নিত আছে,মূত্র ত্যাগের পর পবিত্র হওয়ার জন্য তিনি ২/৩ লিটার পানি খরচ করতেন এবং গোসলে মাত্র ২-৩১/২ লিটার পানি ব্যবহার করতেন। তিনি আবদ্ধ পানিতে মল-মূত্র ত্যাগ করে পানিকে দূষিত করাকে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রাকৃতিক সম্পদের সূষ্ঠু ব্যবহার সহ অপচয় রোধের কোন বিকল্প নেই।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরানে বর্ণিত আছে, “তিনিই লতা ও বৃক্ষ উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করিয়াছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদ বিশিষ্ট খাদ্যশস্য,যয়তুন ও দাড়িম্ব সৃষ্টি করিয়াছেন।ইহারা একে অন্যের সদৃশ এবং বিসদৃশও, যখন উহা ফলবান হয় তখন উহার ফল আহার করিবে আর ফসল তুলিবার দিনে উহার দেয় প্রদান করিবে এবং অপচয় করিবেনা; কারন তিনি অপচয়কারিদিগকে পছন্দ করেন না”(সুরা আন আম, আয়াত ১৪১)।
ইসলাম মানবতার ধর্ম আর অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দূর্যোগ সমগ্র মানবতার জন্য হুমকিস্বরুপ।তাই আসন্ন এই বিপদ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে হলে বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত ডাচ নৃ-বিজ্ঞানি ফ্রান্সিসকো ডি চাটেল বলেছেন, “পরিবেশ দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর কিছু অংশে মরুময়তা এবং পানি স্বল্পতা, অন্য অংশে বন্যা ও ঝড়ের প্রকোপ বেড়ে গেছে।এই সব জটিল প্রাকৃতিক সমস্যাকে সফলভাবে মোকাবেলার জন্য এখনই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত”
এটা ঠিক, এত অল্প পরিসরে ইসলামের শিক্ষা বর্ণনা করা অসম্ভব তাছাড়া আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও এক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী।তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়,পরিবেশের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ইসলামের শিক্ষা নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
[মোঃ আব্দুল বাতেন, স্টকহোম রেসিলিয়েন্স সেন্টার, স্টকহোম ইউনিভার্সিটি, সুইডেন]
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন